হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এবং ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ওপর। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই দেশগুলোর গ্রাহকদের জানানো হয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহের ওপর জারি করা ফোর্স ম্যাজিউর নোটিশের মেয়াদ আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে এই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দেশগুলোতে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর আগে এপ্রিল মাসে সরবরাহে বিঘ্নের পর প্রথমবারের মতো ফোর্স ম্যাজিউর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এসব সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
কাতারএনার্জির বড় ইউরোপীয় ক্রেতা ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ডিসেম্বর মাসের শুরু পর্যন্ত তারা কাতার থেকে কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না। ইতালির গ্যাস বাজারের একটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্যে এডিসন আরও নিশ্চিত করেছে যে, কাতারএনার্জি অতিরিক্ত ছয়টি এলএনজি কার্গোর চালান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাতার থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না পাওয়ার ঘাটতি মেটাতে এডিসন এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩টি বিকল্প কার্গোর ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাতারএনার্জির সঙ্গে এডিসনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৬৪০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ইতালিতে সরবরাহ করার কথা রয়েছে, যা দেশটিতে মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। এদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের মজুত বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যদিও ইতালি তাদের নির্ধারিত মজুতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে আশাবাদী, তবুও মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের এই বিঘ্ন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির একটি প্রধান উৎস হলো কাতার। দেশটির দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকার এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ ও আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের শিল্প বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঢাকা ব্যাংক সম্প্রতি একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের অর্থনীতির অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে। Dhaka Bank sign agreement under Tk 2,000 crore leather industry financing scheme।

