আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) পুরোপুরি নির্মূল করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—এই তিন খাতের সমন্বিত উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, এতদিন চোখের চিকিৎসায় প্রশংসনীয় কাজ হলেও কোনো সমন্বিত মনিটরিং বা কমন রিপোর্টিং ব্যবস্থা ছিল না। এখন একটি জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। রূপকল্পের প্রথম বছরেই প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বিদ্যমান চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার পর্যালোচনার মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে নতুন জনবল নিয়োগের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত চশমা সরবরাহের জন্য দেশব্যাপী সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হবে। এছাড়া কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের চোখের যত্ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিক ও কর্মীদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হলে কাজের উৎপাদনশীলতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চোখের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর লাখ লাখ সফল অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করে ৪-৫ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিমুক্ত অন্ধত্বহীন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগ শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক স্ক্রিনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছানো সহজ করতে চাই। তার মূল লক্ষ্য হলো, হাইটেক চক্ষুসেবা যেন শুধু ধনী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের একদম শেষ সীমানার প্রান্তিক মানুষও এটি নাগরিক অধিকার হিসেবে পায়। চক্ষু সেবা খাতের দক্ষ জনবল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি করে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং পরে উন্মুক্ত আলোচনায় দেশের প্রবীণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকরা মতামত তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে (স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

