দারিদ্র্যের কশাঘাত পেরিয়ে ফুটবলের রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল

পাসপোর্ট কিংবা ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মরক্কো থেকে বাসে করে স্পেনের মাতারো শহরে এসে পৌঁছেছিলেন ফাতিমা নামের এক নারী। সন্তানের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় তিনি দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ জমিয়ে তিন বছর বয়সী ছেলে মুনিরকে স্পেনে নিয়ে আসেন। একই সময়ে আফ্রিকার দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে মায়ের হাত ধরে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান শিলা ইবানা। অভাব ও অনিশ্চয়তার লড়াইয়ে থাকা এই দুই পরিবার বার্সেলোনার এক গলিতে পরিচিত হওয়ার পর পরিণয়ে আবদ্ধ হন। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই তাদের কোল আলো করে আসে লামিন ইয়ামাল। তার নাম রাখা হয় বাবা-মায়ের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু লামিন ও ইয়ামালের সম্মানে।

শিশুকাল থেকেই ইয়ামাল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলেন। ক্লাবের প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় শিশুদের ছবি তোলার সেই কর্মসূচিতে তৎকালীন ২০ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসির কোলে তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ছয় মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে। সম্প্রতি ইয়ামালের বাবা মুনির সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে তা বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ইয়ামালের শৈশব কেটেছে মাতারো ও গ্রানোয়ের রাস্তায়। দারিদ্র্য তাকে দমাতে পারেনি, বরং তার ফুটবলের প্রতি অদম্য টান তাকে নিয়ে যায় বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’য়।

লা মাসিয়ায় প্রশিক্ষণের পর বার্সেলোনার ১১৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। ১৬ বছর বয়সে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এবং ইউরো জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গোল করার পর তিনি নিজের জন্মস্থান রোকাফোন্দার পোস্টাল কোড ‘৩০৪’ আঙুলে প্রদর্শন করে নিজের শেকড়কে স্মরণ করেন।

মুসলিম মরক্কোন পিতার সন্তান ইয়ামাল তার ছোট ভাই কেইন ইয়ামালের জীবনের পূর্ণতা নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। খ্যাতি ও অর্থ অর্জনের পর তিনি সবার আগে নিজের মা, বাবা ও দাদির জন্য স্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করেছেন। অভাবের কশাঘাত থেকে উঠে আসা এই অদম্য তরুণের জীবনের গল্প আজ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য স্বপ্নবাজ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।