দিল্লিতে ১৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন

যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানী দিল্লির ১৭টি মেট্রো স্টেশন এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় অফিসগামীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাদের নিয়মিত গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ ও বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে যাতায়াত ব্যয় ও সময় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় পুলিশ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানোয় নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় এই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, সাধারণত নয়ডা থেকে বিকাশ মার্গ হয়ে মান্ডি হাউসে পৌঁছাতে ৪৫ মিনিট সময় লাগলেও আজ তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, নয়ডা-দিল্লি মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আইটিও টানেলের কাছে সড়ক অর্ধেক বন্ধ করে দেওয়ার আগে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক বার্তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর সংসদ মার্গ, টলস্টয় মার্গ, কনট প্লেসের আউটার সার্কেল, প্যাটেল চক, ইন্ডিয়া গেট সার্কেল, ডিডিইউ মার্গ এবং মিন্টো রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। বিশেষ করে আইটিও টানেলের কাছে একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর তালিকায় রয়েছে- লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম ও ঝান্ডেওয়ালান।

মেট্রো সেবা বন্ধ থাকায় বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং অটোরিকশা ও ক্যাবের চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, তাদের সাধারণ ৪০ মিনিটের যাত্রায় অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে। সন্ধ্যায় অফিস ছুটির পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন সড়কে বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া নয়াদিল্লি এলাকায় প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত