সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলায় রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এসব হামলার কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা রাশিয়ার কারিগরি সহায়তার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

ইরানের হামলার সূচনালগ্ন থেকেই এ ধরনের সংঘাতের খবর সামনে আসতে থাকে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিনে রিয়াদে সিআইএ স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ৬ মার্চ সিএনএন জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্তের ক্ষেত্রে তেহরানকে সহায়তা করছে মস্কো। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি এই রুশ সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন। আল জাজিরাকে তিনি জানান, ইরানের নিজস্ব মহাকাশ সক্ষমতা বা সামরিক মানের স্যাটেলাইট পর্যাপ্ত না হওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সমঝোতার বিষয়টি জোরালো হয়। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক গভীর হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। গত বছর উভয় দেশ ২০ বছরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলেও রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া কোমেটা-এম অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করে ইরানের ড্রোনগুলোর নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করছে।

অধ্যাপক গ্রায়েভস্কির মতে, রাশিয়া এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি ইরানকে টিকে থাকতে সহায়তা করা রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থের অংশ। যদিও রাশিয়ার সহায়তা ইরানের সক্ষমতাকে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে, তবুও গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা, যা যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে মৌলিক প্রভাব ফেলছে।