পর্যটক বাড়াতে দুবাইয়ে বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতকে পুনরায় চাঙ্গা করার লক্ষ্যে দুবাই সরকার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমিরাতের বাসিন্দারা যদি তাদের বিদেশি বন্ধু বা স্বজনদের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করতে পারেন, তবে তাদেরকে উপহার হিসেবে ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম সমমূল্যের সুবিধা দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৮৫ হাজার টাকার বেশি বা প্রায় ৬১০ পাউন্ডের সমান।

দুবাইয়ের অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের অধীনে 'দুবাই ইনভাইট' শীর্ষক এই নতুন উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির 'ভিজিট দুবাই' ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাসিন্দারা তাদের বিদেশি বন্ধু ও স্বজনদের নাম মনোনীত করবেন। মনোনীত অতিথিরা দুবাই সফর করলে বাসিন্দারা বিনামূল্যে হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে প্রবেশের টিকিটসহ বিশেষ 'বেনিফিট প্যাকেজ' পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন আমিরাত বাসিন্দা সর্বোচ্চ তিনটি বেনিফিট প্যাকেজ পাওয়ার যোগ্য হবেন। শর্ত অনুযায়ী, মনোনীত পর্যটকদের অবশ্যই অ-আমিরাতি বাসিন্দা হতে হবে এবং বৈধ পর্যটন ভিসা নিয়ে দুবাই আসতে হবে। এছাড়া, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পর্যটকদের দুবাই পৌঁছাতে হবে, তবে প্রাপ্ত উপহারের সুবিধাগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। একজন পর্যটককে কেবল একবারই মনোনীত করা সম্ভব।

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতে মারাত্মক মন্দা সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান কর্তৃক পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত ফায়ারমন্ট হোটেল এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে সুরক্ষিত ও বিলাসিতার কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের যে ভাবমূর্তি ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ২০১৫ সালে রেকর্ড প্রায় ২ কোটি পর্যটক দুবাই ভ্রমণ করলেও বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি ও ফ্লাইট রুট পরিবর্তনের কারণে বিমান সংস্থাগুলোর চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুবাইয়ের সার্বিক ব্যবসায়িক আয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি ধস নেমেছে এবং অনেক হোটেল এখন খালি পড়ে আছে। বিখ্যাত 'বুর্জ আল আরব' হোটেলের মতো স্থাপনাগুলো বড় ধরনের সংস্কারের দোহাই দিয়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় অনেক হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং বিনামূল্যে অতিরিক্ত রাত থাকার সুবিধা দিচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'দুবাই ইনভাইট' প্রকল্পটি চালু হওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।