আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একের পর এক সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে বাংলাদেশি সিনেমা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের মনস্তাত্ত্বিক হরর ঘরানার ছবি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ৮৩তম ভেনিস উৎসবে অরিজোন্তি বা ‘হরাইজনস’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হবে। বৃহস্পতিবার উৎসব কর্তৃপক্ষ বিভাগটির জন্য নির্বাচিত ছবির তালিকা প্রকাশ করেছে।
এর আগে ২০১০ সালে ইশতিয়াক জিকোর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭২০ ডিগ্রিজ’ ভেনিস উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছিল, যা ছিল উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সেই ছবিটি প্রযোজনা করেছিল খনা টকিজ, যারা এবার ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর বাংলাদেশি সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘মেফেয়ার’ বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে। গল্পের মূল চরিত্র জাইনীন নামের এক তরুণী বিয়ের প্রস্তুতির জন্য সেখানে যায়। পার্লারে বিয়ের সাজসজ্জার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে সে সৌন্দর্য, শরীর, বিশ্বাস, স্মৃতি ও ভয়ের এক রহস্যময় এবং অস্বস্তিকর জগতে জড়িয়ে পড়ে।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম। এছাড়া সহ-অভিনয়ে রয়েছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ কামাল। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী।
ভেনিস উৎসবে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে থাকবেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন এবং অভিনয়শিল্পী জাইনীন চৌধুরী করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ কামাল, আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খান। বিশেষ উল্লেখ্য যে, এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত চারজন নারী শিল্পী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত। রুবাইয়াত হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে এবং আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ কামাল শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অতীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
এই সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘একটি ছবি জন্ম নেয় বহু মানুষের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং ভালোবাসা থেকে। আমি আমাদের পুরো নির্মাণদল, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সহ-প্রযোজক এবং সহযোগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমার বাবা-মার প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা, যাঁদের ভালোবাসা, দিকনির্দেশনা ও দোয়া আমাকে এই পথ চলার শক্তি দিয়েছে। অনেক বছরের শ্রম, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস নিয়ে আমরা এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছি। সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন আমাদের এই পরিশ্রম কবুল করেন এবং সামনে আরও সুন্দর পথ খুলে দেন।’
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩০আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩৮

