সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকারিভাবে লবণ বরাদ্দ না পাওয়া, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
একসময় চামড়া ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক ছিল। বিগত ১৫-১৬ বছর আগেও এর কদর ছিল চোখে পড়ার মতো। কোরবানির দিনে ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতেন এবং লবণ মেখে সংরক্ষণ করতেন। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ট্যানারি মালিকরা এসে সেই চামড়া নিয়ে যেতেন।
তবে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এই শিল্প সংকটের মুখে পড়ে। বর্তমানে আর কেউ চামড়া কিনতে বাড়ি বাড়ি যায় না, এমনকি ট্যানারি মালিকরাও চামড়া সংগ্রহ করতে আসেন না। এবারের ঈদে উপজেলায় চামড়া বিক্রি হয়েছে নামমাত্র মূল্যে, যা ‘পানির দামে’ বিক্রি হওয়ার সমতুল্য। ৩০০ টাকার বেশি দাম দিতে কেউ রাজি হয়নি। দাম না পাওয়ায় অনেকে কসাইদের বিনামূল্যে চামড়া দিয়ে দিয়েছেন। চামড়ার দামে এমন ধস নামায় বেশিরভাগ মাদরাসা ও এতিমখানাও চামড়া সংগ্রহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেকে খাসি ও বকরির চামড়া মাটিচাপা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
পৌর শহরের পুরানবাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে কেনা চামড়া পৃথক পৃথক একাধিক ঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। লবণ মেখে স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এই চামড়া। স্তূপ আকারে সংরক্ষিত এই চামড়া এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ট্যানারিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
এ বিষয়ে কথা হলে ব্যবসায়ী মকদ্দুস আলী বলেন, ‘পূর্বপুরুষ ধরে আমরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একসময় এটি বেশ লাভজনক ছিল। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চামড়ার বাজার মন্দা যাচ্ছে। আগে ট্যানারি মালিকরা এসে চামড়া নিয়ে যেতেন, এখন আমরা নিজেরা নিয়ে গিয়েও ন্যায্যমূল্য পাই না। তার ওপর আবার বকেয়া পাওনা তো আছেই। বর্তমানে চামড়ার দামের চেয়ে লবণের দাম বেশি। এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার বরাদ্দ দিলেও এবার আমরা সরকারি লবণ পাইনি। যে চামড়া সংগ্রহ করেছি, তাতে লাভের মুখ দেখতে পারব কি-না, তা বলতে পারছি না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘চামড়ার বাজারে সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। চামড়া সংরক্ষণে জেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সরকারের পক্ষ থেকে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে, উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লবণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।’
নিজের সংরক্ষণে রাখা চামড়া নিয়ে ব্যবসায়ী মকদ্দুস আলীর দুশ্চিন্তা কাটছে না।
