‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মো. গাউছাল আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের ডা. হাসান মাহমুদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক মো. বেলাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, গ্রামের উন্নতির ওপরই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পল্লী উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো বিনির্মাণে ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সমবায়ী সদস্যদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই পল্লী উন্নয়নে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমবায় ব্যাংকের সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন লোক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
আলোচনা সভার আগে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপকারভোগী সমবায়ীরা তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে সফল সমবায়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং সফল ম্যানেজারদের কমিশন প্রদান করা হয়।

