সরকারের গত পাঁচ মাসের শাসনামলে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, আশঙ্কা ও দীর্ঘশ্বাস বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমসাময়িক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশ বর্তমানে এক ভীতি ও অনিশ্চয়তার জনপদে পরিণত হয়েছে। তিনি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বাজেটে কর ও ঋণের বোঝা চাপানো, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে জনজীবনের সংকট তীব্র হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার উদ্যোগ বন্ধ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বন্যাদুর্গতদের পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না সমাবেশে বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। তিনি কর ও ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেন।
অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য দিবালোক সিংহ চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইজারা দেওয়া বা বিদেশি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা জনগণ রুখে দেবে। সিপিবি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে দেশব্যাপী বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

