দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার কঠোর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার প্রভাব খাটিয়ে কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে দুস্থদের মাঝে জি আর চাল ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয় এবং প্রতিবন্ধীদের হাতে হুইল চেয়ার তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশ থেকে মানবিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন আর সম্মানিত ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান জানানো হয় না, প্রত্যেকেই নিজের মতো করে চলছে।” এই নেতিবাচক প্রবণতা দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তার মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধে কাজ করা অন্যতম। তিনি বলেন, “আমাদের সেই মানবিক আচরণ, যা মুরুব্বি, ছোট এবং এমনকি পশুপাখিদের প্রতি দেখানো হতো, তা এখন বিলুপ্তির পথে। আগে রাস্তা দিয়ে কেউ গেলে আমরা সালাম ও ভদ্রতা দেখাতাম। কোনো অনুষ্ঠানে, যানবাহনে বা প্লেনে গেলে আমরা বয়োজ্যেষ্ঠদের বসার জায়গা করে দিতাম বা চেয়ার এগিয়ে দিতাম।”

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন এসব প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে, সরকার বিশেষত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিশু থেকে শুরু করে যুবক-যুবতীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে বড় পর্দার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও ভিডিও প্রচারের উদ্যোগও রয়েছে।

ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, অতীতে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, এমনকি রাজনৈতিক বিবেচনাতেও সহায়তা দেওয়া হতো। তবে এখন থেকে কেবল যোগ্য ও প্রাপ্য ব্যক্তিরাই সহায়তা পাবেন। তিনি জানান, এখন থেকে সড়কগুলো ইট বিছানো হবে এবং কাঁচা রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করা হবে না। ভবিষ্যতে কোনো কাজ পেতে কাউকে কমিশন দিতে হবে না বা চাঁদা দিতে হবে না; সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণকে পাশে থাকতে হবে এবং সরকার চায় প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতা করুক।

নান্দাইলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই উপজেলার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সাধিত হবে। তবে এর জন্য সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নান্দাইল গড়ে তোলা অপরিহার্য।

উক্ত অনুষ্ঠানে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত দিনব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি পৌরসভার আমোদাবাদ মহল্লার একটি সড়কে তাল গাছ রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।