বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফলতা অনেকাংশে এর নকশা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচিকে সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন (সোশ্যাল রেজিস্ট্রি), প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং জবাবদিহিমূলক বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ফাহমিদা খাতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অধীনে অসংখ্য কর্মসূচি পরিচালিত হলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এতে সম্পদের অপচয় ঘটছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিচ্ছিন্ন এই কর্মসূচিগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি এর কার্যকারিতা ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং বাদ পড়ার ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সহায়তার পরিমাণ এমন হতে হবে যা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে। অতীতে ৫০০ বা ৬০০ টাকার ভাতার প্রভাব ছিল নগণ্য, সেখানে মাসে আড়াই হাজার টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংক। তবে এই অর্থ স্থির থাকবে নাকি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
অতীতে স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সেবার দক্ষতা বাড়াতে হবে। সবশেষে তিনি মত দেন যে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

