পাকিস্তানের ৩ শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে বিধিনিষেধ

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহ করতে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের এখন থেকে আগাম সরকারি অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মরত সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, এমনকি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদেরও সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। গত সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের একটি বার্তা গ্রুপে এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাক তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, পাকিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সব সাংবাদিককে সরকারের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এই নিয়ম ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি গণমাধ্যমকে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। তবে নতুন নির্দেশনা কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং তা না মানলে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠার পরই নতুন এই নির্দেশনা সামনে এলো। যদিও কাশ্মীরের ওই পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন নীতিমালার কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, তা জানায়নি পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়।

নতুন এই নির্দেশনা নিয়ে পাকিস্তানের মানবাধিকার ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এরই মধ্যে নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দেশটিতে নিরাপত্তা, পরিবেশ, মানবাধিকারসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রাজধানী ও বড় শহরগুলোর বাইরে ঘটে। ফলে সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ সীমিত করা হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’ সাংবাদিকদের কাজ সহজ করার পরিবর্তে সংবাদ সংগ্রহের ওপর আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের পথে নতুন বাধা তৈরি হবে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বর্তমানে বড় শহরগুলোর বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের এনওসি নিতে হয়। তবে এই অনুমতি পেতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতি বা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলো সময়মতো কাভার করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন নির্দেশনা নিয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত