জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি সরকারের

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন যে, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রোববার বিকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলনে’ তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, তারা এমন একটি প্রকৃত সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে এবং কোনো বৈষম্য থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অনেকে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি; কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তবুও শহীদদের আত্মত্যাগ ও পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ ডানপন্থী, বামপন্থী বা ইসলামপন্থী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশপন্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই বাংলাদেশই প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা থাকবে এবং গুম-খুন বা মামলার ভয় থাকবে না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত