নাটোরের গুরুদাসপুরে অবৈধ পেট্রোল পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই দোকান ও বাড়ি

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর বাজারের গোডাউন মোড় এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে একটি অনুমোদনহীন মিনি পেট্রোল পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেসার্স নুরু এন্টারপ্রাইজ নামের ওই পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সময় সেটি থেকে আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাশের তিনটি দোকান ও দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই গুরুদাসপুর ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাম্পের তেলের ট্যাংকি মেরামতের কাজ চলাকালে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতায় মোস্তফার মুদি দোকান, রেজাউল করিমের স্বর্ণের দোকান ও সেলিমের কীটনাশকের দোকান পুড়ে যায়। পাশাপাশি মামুন হোসেন ও মোশারফ হোসেনের দুটি বসতবাড়িও আগুনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে পেট্রোল পাম্পটি পরিচালনার কারণেই এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোস্তম আলী জানিয়েছেন, পাম্পটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এবং এর কোনো ধরনের ফায়ার লাইসেন্স বা অনুমোদন ছিল না। বেশ কয়েক বছর ধরে এটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী জানান, পাম্পটির কোনো জ্বালানি তেলের অনুমোদন না থাকলেও মালিক নুরুল ইসলাম তার পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় পাম্পের মালিক নুরুল ইসলাম ও তার ছেলেকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তার হামিদ খান জানান, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা পাম্প মালিকের বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় উপজেলার নাজিরপুর বাজারের গোডাউন মোড় এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে নাটোর থেকে আরেকটি দল সেখানে পৌঁছায়। ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের তীব্রতায় পাশের একটি মুদি দোকান একটি কীটনাশক ও একটি ফার্নিচারের দোকানসহ দুটি বসতবাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দোকানের মালামাল ও বসতবাড়ির আসববাবপত্র পুড়ে যায়। তবে পেট্রোল পাম্পের মালিক নুরুল ইসলাম ও তার ছেলেকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh