আজীবন সম্মাননায় ভূষিত প্রবীণ প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পাল

সম্মাননায় ভূষিত প্রতিমাশিল্পী

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের উদ্যোগে গত ২০ জুন রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক বিশেষ আয়োজনে ‘ক্রাফটস ভিলেজেস আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়েছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবার এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা পেয়েছেন প্রবীণ প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পাল। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে মাটি ও মানুষের শিল্পচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন এই গুণী শিল্পী। তার কর্মজীবন ও শিল্প ভাবনা নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে নানা দিক।

শিল্পের পথে যাত্রা

দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ার সম্পর্কে হরিপদ পাল জানান, এটি তাদের বংশানুক্রমিক একটি পেশা। ছোটবেলা থেকেই দাদু, বাবা ও কাকার কাজ দেখে এই শিল্পের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পরেই তিনি পুরোদমে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শিল্পকর্ম তার কাছে নেশার মতো। শিল্পের আশ্রয়ে মানুষের মনে অনুভূতির সঞ্চার করাই তার মূল লক্ষ্য। তার কাজের সূচনা হয়েছিল নরসিংদীতে। বর্তমানে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে কালীমন্দির ট্রাস্টের সহায়তায় তিনি নিজস্ব স্টুডিও গড়ে তুলেছেন।

স্মৃতির পাতায় প্রথম কাজ

নিজের প্রথম নির্মিত প্রতিমার কথা স্মরণ করে হরিপদ পাল জানান, নরসিংদীর উত্তরকান্দাপাড়া এলাকার বিপিন দাসের বাড়িতে মা মনসার পূজা উপলক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো প্রতিমা তৈরির কাজ করেছিলেন। সেই কাজ থেকেই মূলত তার কাজের দক্ষতার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

প্রযুক্তি ও আধুনিকতা

শিল্পকর্মে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি এখনো হাত দিয়েই প্রতিমা তৈরি করেন। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া হিসেবে বর্তমানে তিনি স্প্রে কালার ব্যবহার করছেন, যা আগে প্রচলন ছিল না। কাজের নকশা বা ডিজাইনের ক্ষেত্রে তিনি পরিবেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় গ্রাহকদের পছন্দকেও গুরুত্ব দেন।

ভবিষ্যৎ ভাবনা

আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ স্বীকৃতি তার কাজের মান আরও উন্নত করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। নতুন প্রজন্মের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পকর্মে জোর করে কাউকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব নয়। যদি কেউ ভেতর থেকে শিল্পের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, তবেই নতুনরা এই পেশায় আগ্রহী হবে।

হরিপদ পাল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই শিল্পচর্চা অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসানের হিসাব তিনি কখনো করেননি, ভবিষ্যতেও করতে চান না। শিল্পের মাধ্যমেই জীবন অতিবাহিত করতে চান এই প্রবীণ শিল্পী।