বাংলাদেশ পিপলস লীগকে ৩ মাসের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলাদেশ পিপলস লীগকে আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

এর আগে, ২০১২ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ২০১৪ সালে দলটির মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট হাইকোর্ট ইসিকে দলটির বিষয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের জুনে নির্বাচন কমিশন আদালতে হলফনামা দাখিল করে জানায় যে, দলটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ইসির মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, দলটি দাখিলকৃত ৩১টি উপজেলার মধ্যে ১৮টি এবং সাতটি জেলার মধ্যে মাত্র তিনটি জেলা দপ্তরের অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পেরেছে, যা নিবন্ধনের জন্য যথেষ্ট নয়।

আদালতের রায়ের পর দলের চেয়ারম্যান গরিব নেওয়াজ জানান, ১৯৭৬ সালে ডা. আলীম আল রাজীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পিপলস লীগ ২০১২ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তিনি দাবি করেন, রি-ইনকোয়ারির পরেও অন্যায়ভাবে তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি, অথচ অনেক কম যোগ্যতা সম্পন্ন দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।

দলের মহাসচিব ও রিটকারী সৈয়দ মাহবুব হোসেন বলেন, ২০১২ সালে আবেদনের সময় তাদের ৮৩টি উপজেলা এবং ১৮টি জেলায় দপ্তর ছিল। বর্তমানে তাদের ১০১টি উপজেলা এবং ২১টি জেলা দপ্তর থাকা সত্ত্বেও ইসি নিবন্ধন দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশেই নিবন্ধন দেওয়া হয়নি কারণ তারা ২০ দলীয় জোটের শরিক ছিল। হাইকোর্টের আজকের রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত