জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে।
স্মৃতিস্তম্ভটি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ‘পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ নামে সংগঠনটি গঠিত হয়। এর প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হলে দবিরুল ইসলাম সভাপতি এবং খালেক নেওয়াজ খান সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। পরবর্তীকালে এই সংগঠনের নাম হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ এবং বলা হয়, ছাত্রলীগই একমাত্র ছাত্র সংগঠন যার হাত ধরে আওয়ামী লীগের মতো বৃহত্ রাজনৈতিক সংগঠন গঠিত হয়।
বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও ছাত্রলীগ থেকেই। ১৯৪৮ সালেই মাতৃভাষার পক্ষে ছাত্রলীগ আপসহীন অবস্থান তৈরি করে এবং ১১ মার্চ উর্দুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট পালন করে।
১৯৫৬ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায়, ’৫৭-এর শিক্ষক ধর্মঘট এবং ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ছাত্রলীগ। বাঙালির মুক্তির ছয় দফা হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ আন্দোলনে রাজপথের প্রথম সারিতে ছিল এই ছাত্র সংগঠন। ছাত্রলীগের নেতৃত্বেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে ছাত্র গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এরপর একাত্তরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, যেখানে ছাত্রলীগের প্রায় ১৭ হাজার নেতা-কর্মী শহীদ হন।
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনের সংগ্রামে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সামরিক শাসনের মধ্যেও ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে, বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মধ্যে দলাদলি, অন্তর্কোন্দল, প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ নানা কারণে সংগঠনটি সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের খবর, Mymensingh Division News
prothomalo-bangla/2026-07-18/11wuor5j/jamalpurdh056320260718jamalpur-pic-7.jpg

