রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আজ বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই জাদুঘরে প্রবেশ করতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা মূল্যের টিকিট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি স্লটে ভাগ করে দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী এই জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন।
এর আগে গতকাল বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের প্রথম দিনে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদেরই এটি ঘুরে দেখার সুযোগ ছিল। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীরা অনলাইন বুকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি সরাসরি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। আজ প্রথম দিনের জন্য নির্ধারিত ৯০০টি টিকিট গতকালই বিক্রি হয়ে গেছে।
জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রতিদিন তিনটি সময়সীমা বা স্লট রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে মর্নিং স্লট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা, মিড ডে স্লট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং ইভিনিং স্লট বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকিটের গায়ে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেবল মূল ভবনে প্রবেশ করা যাবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই গণভবনে তৈরি করা হয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। এই জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারিতে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে আন্দোলনের আবেগঘন স্মৃতি ও নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। গ্যালারিগুলোতে স্থান পেয়েছে শহীদদের ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন, তাদের আত্মত্যাগের প্রামাণ্য দলিল, আলোকচিত্র এবং বিশেষ ভাস্কর্য। প্রদর্শনীতে শহীদ আহনাফের মৃত্যুর আগে তার মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিটি দেখে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতির পাশাপাশি বিগত দেড় দশকের আলোচিত ঘটনাগুলোও এখানে আলাদা প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিডিআর বিদ্রোহের মর্মান্তিক সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং বিগত শাসনের গুম-নির্যাতন সংক্রান্ত বিশেষ তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল। জাদুঘরের বাইরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কবর। শুধু তা-ই নয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ভাস্কর্যের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রিকশাচালকের স্যালুট জানানোর দৃশ্য এবং শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পানি বিতরণের অমর মুহূর্তের ভাস্কর্য দুটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিয়েছে।

