কুবি উপাচার্যের কাছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৫ দফা দাবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে স্বচ্ছ ও নীতিভিত্তিক আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রোববার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে সংগঠনটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আবাসিক হলে মেধা, দূরত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও অন্যান্য যৌক্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন করে আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করা। এছাড়া হলগুলোকে সর্বাত্মক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে শিক্ষার্থী তোলার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব হল প্রশাসনের হাতে রাখা, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাগিংমুক্ত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, বিজয়-২৪ হলে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ছাত্রদলের শিক্ষার্থী তোলার প্রতিবাদে তারা এই স্মারকলিপি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৭–১৮ ও ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী মাস্টার্স সম্পন্ন করার পরও হলে অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি ক্যাম্পাসে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সিট পাওয়ার প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হলগুলোকে কেবল শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি এটি পর্যালোচনা করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার আলোকে ছাত্র পরামর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, বিজয়-২৪ হলে হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ছাত্রদলের দুই নেতার মাধ্যমে নবীনদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে সমালোচনার সৃষ্টি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই স্মারকলিপি প্রদান করা হলো।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত