অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

কুমিল্লার আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলামের স্থলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনার আলোকে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করবেন। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, নথিপত্র বুঝে পাওয়ার পরপরই নতুন তদন্ত কর্মকর্তা তার কার্যক্রম শুরু করবেন। এছাড়া, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের সূত্র ধরে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো

  1. সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)
  2. মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬)
  3. এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়াম (১৯)।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান গত ২০ সেপ্টেম্বর জানান, মূলত আইফোন ছিনিয়ে নিতেই মাথায় লাঠি ও বাঁশের আঘাত করে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর সিয়াম বাদে বাকি তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে।