রাঙামাটিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা

টানা অতিবৃষ্টির ফলে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক এবং কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩২টি, কাউখালীতে ৩০টি, নানিয়ারচরে ২টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ৩৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ধসে বিশাল মাটির স্তূপ জমা হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্ধারকারী দল প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর এক পাশ দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কাপ্তাইয়ের মতিপাড়া এলাকায় চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে সকাল ৬টা থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, প্রবল বৃষ্টির কারণে রাতের কোনো এক সময় এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, সবকটি স্থানে মাটি সরিয়ে রাস্তা সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। এদিকে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

দুর্যোগের মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের ডুলুছড়ি এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়া দলমনি চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছড়া পার হওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। অন্যদিকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে মো. বদি আলম নামে এক মুদি ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি বুধবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে ফারুয়া বাজারে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বুধবার রাতে এবং অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ও খোঁজখবর নেন। অতিবৃষ্টির কারণে বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।