উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেয়াল ধসে নিহত বেড়ে পাঁচ

কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে অবস্থিত একটি মহিলা হেফজখানায় দেয়াল ও মাটিচাপার ঘটনায় নিহত ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু অবস্থান করছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও এডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলো ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) এবং মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়ার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলো ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা নেতা ও স্থানীয় পুলিশ জানায়, সকাল থেকেই আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত মাদ্রাসাটির ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। এর আগে গত সোমবার রাতের ভূমিধসে আশ্রয়শিবিরে নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।