পুরান ঢাকার শেষ বটগাছ ও শিকড়ের বিস্ময়কর স্মৃতি

পাঠকের কাছ থেকে পাওয়া একটি বার্তা রাত তিনটায় ফারিয়াদের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। সেখানে পুরান ঢাকার সেক্টর ৭ থেকে একটি জৈব অবকাঠামো বা গাছ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার সময়সীমা ছিল ভোর ছয়টা। এক২০৮০ সালের ঢাকা এখন ড্রোন এবং ম্যাগনেটিক রেলের শহর। বুড়িগঙ্গা নদী এখন কেবল একটি পাইপলাইন এবং মানুষ এখন নিউরোলিংক চিপের মাধ্যমে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে। অক্সিজেন বায়োরিঅ্যাক্টর থেকে আসে এবং প্রকৃতির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। তবে পুরান ঢাকার ৩৮ নম্বর গলিতে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বটগাছ টিকে ছিল, যা দেয়ালের ফাটলে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল।

সিটি ক্লিয়ারেন্স ডিভিশনের রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার ৩৪ বছর বয়সী ফারিয়াদ হোসেনের কাজ ছিল শহরের অপ্রয়োজনীয় বস্তু সরিয়ে ফেলা। ছোটবেলায় নানিবাড়ির আমগাছ কাটার স্মৃতি তাকে আজও তাড়া করে। সেই রাতে চারটি টাইটানিয়ামের ক্লিয়ারেন্স বট নিয়ে সে গাছটি কাটতে যায়। কিন্তু গলিতে প্রবেশের পর সব বটের সিস্টেম এরর দেখা দেয়। ফারিয়াদ অনুভব করতে শুরু করে গাছের ভাষা—মাটির গভীরে বীজের যাত্রা, বৃষ্টি, মানুষের স্পর্শ এবং একাকিত্বের অনুভূতি।

ফারিয়াদ গাছের গোড়ায় মাটি খুঁড়ে দেখতে পায়, শিকড়গুলো ১৯৯০-এর দশকের একটি পুরোনো ফাইবার অপটিক কেবলকে শক্ত করে ধরে আছে। গাছটি সেই কেবলের মাধ্যমে শহরের পুরোনো নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে ২০০ বছরের স্মৃতি ধারণ করে আছে। ভোর হয়ে এলে ফারিয়াদ তার সুপারভাইজারকে জানায় যে, এটি ঐতিহাসিক অবকাঠামোর সাথে যুক্ত এবং অপসারণ করলে নেটওয়ার্ক লাইনের ক্ষতির আশঙ্কা আছে, তাই কাজ স্থগিত রাখা হলো।

তিন মাস পর, ফারিয়াদ একটি ল্যাবে গবেষকদের সাথে এই মাইসেলিয়াল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ শুরু করে। একদিন সে পুনরায় ৩৮ নম্বর গলিতে গিয়ে গাছটি স্পর্শ করলে তার মাথায় নানার স্পষ্ট অবয়ব ভেসে ওঠে। সে বুঝতে পারে, ২০০ বছর ধরে গাছটি শুধু টিকে থাকেনি, বরং এটি মানুষের স্মৃতি ও স্পর্শ ধারণ করে সময়ের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত