ছাত্রদলের সমালোচনা করে এমপি রায়হান সিরাজীর বিতর্কিত মন্তব্য

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে ছাত্রদলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে শাপলা চত্বরে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ছাত্রদলে ছাত্র নাই, সব বস্তির টোকাই।’ এটি আমাদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নয়, এটি বেগম খালেদা জিয়ারই বক্তব্য।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে এমপি রায়হান সিরাজী আরও বলেন, ‘ইংরেজি ক্যালেন্ডারে আজ ৫ আগস্ট হলেও তরুণ প্রজন্মের ক্যালেন্ডারে আজ ৩৬শে জুলাই। তিনি দাবি করেন, এই ৩৬শে জুলাইয়ে বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ছোট ছোট মাসুম বাচ্চারা আজ আমাদেরকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন। তবে দুই বছর পেরিয়ে যেতে না যেতেই সেই মাসুম বাচ্চারা নাকি আজ তাদের কাছে বড় বেয়াদব হয়ে গেছে, যা তরুণ প্রজন্ম মেনে নিতে পারছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় হঠাৎ করে ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি জাতির সামনে ভেসে উঠেছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্র শিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল, সেদিন থেকেই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই প্রদর্শনী চলাকালে ছাত্রদলের ভাইয়েরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছবি সরাতে বলেছিলেন। অথচ এই নেতাদের পাশেই একসময় বেগম খালেদা জিয়া সরকার পরিচালনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরের জনগণ আপনাদেরকে লালকার্ড দেখিয়েছে। ছাত্র-জনতার গণজোয়ার দেখে সেদিন আপনারা দিকবিদিক পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরদিন টোকাইদের সম্মেলন ডেকে তাদের হাতে রামদা ও অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন।’

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীর ব্যানারে আঘাত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আলেম-ওলামাদের ব্যানারে জুতা দিয়ে আঘাত করেছেন, তাদের লক্ষণ ভালো নয়। শাহবাগেও এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল, যার পরিণতিতে হ্যালিকপ্টারে চড়ে পলায়ন করতে হয়েছিল। আলেম-ওলামা এবং জাতির কলিজার টুকরা সাঈদীকে নিয়ে তামাশা করবেন না।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজলের সঞ্চালনায় সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত