মুন্সীগঞ্জে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা: বাবা-ছেলে আটক

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬৫ বছর বয়সী জরিপ শেখ নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফ শেখ এবং তার ছেলে পলাশকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের চাঠাতিপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

বিবাদের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে গরুর গোবর ভেসে মাঝে মাঝে ইউসুফ শেখের বাড়ির পাশে চলে যেত। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইউসুফ শেখ প্রায়শই গালিগালাজ করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে জরিপ শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ইউসুফ শেখ ও তার ছেলে পলাশকে এই নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় পলাশ ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা বেগমকে ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে ফাতেমা বেগম আহত হন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে তার স্বামী জরিপ শেখকে পুরো ঘটনাটি জানান।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা জানার পর জরিপ শেখ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ইউসুফ শেখের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি তার স্ত্রীর ওপর হামলার কারণ জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় ইউসুফ শেখ ও তার ছেলে পলাশ দা, বটি ও কুড়াল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ইউসুফ শেখ একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে জরিপ শেখের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আটক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ইউসুফ শেখ ও তার ছেলে পলাশকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী এই বিষয়ে বলেন, “ফাতেমা বেগমকে মারধরের ঘটনার পর আমরা কয়েকজন মিলে ইউসুফ শেখের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইউসুফ শেখ ও পলাশ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।”

টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু জানান, বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।