নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রচলিত জিপিএ (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) বা অন্য কোনো গ্রেডিং পদ্ধতি আর থাকছে না। এমনকি গত বছর থেকে আলোচিত ত্রিভুজ, বৃত্ত বা চতুর্ভুজ দিয়েও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে না। এর পরিবর্তে শুধু বিষয়ভিত্তিক পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর দেওয়া হবে এবং প্রতিটি বিষয় মূল্যায়নে সাতটি পর্যায় বা স্কেল ব্যবহার করা হবে। তবে সব বিষয়ের স্কেল মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।
বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক (ষান্মাষিক) মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায়ও এই সাতটি ধাপ বা স্কেল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এই সাতটি স্কেল হলো— প্রারম্ভিক (Elementary), বিকাশমান (Developing), অনুসন্ধানী (Exploring), সক্রিয় (Activating), অগ্রগামী (Advancing), অর্জনমুখী (Achieving) ও অনন্য (Upgrading)।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে। এই মূল্যায়নে লিখিত ও অন্যান্য মূল্যায়নের ওয়েটেজ থাকবে ৬৫ শতাংশ এবং কার্যক্রমভিত্তিক মূল্যায়নে থাকবে ৩৫ শতাংশ। পাবলিক পরীক্ষায় মোট ১০টি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, যার মধ্যে লিখিত পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়নে বিরতিসহ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫ ঘণ্টা অবস্থান করতে হবে এবং বর্তমান ব্যবস্থার মতোই আলাদা পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের মূল্যায়নে অংশ নিতে হবে। এই দশটি বিষয় হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জীবন ও জীবিকা, ধর্মশিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি।
এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিষয়ভিত্তিক ৬০০ শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি রিসোর্সপুল বা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের বোর্ডের আয়োজনে এনসিটিবির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সাত দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া, ১১টি শিক্ষাবোর্ডের প্রতিটির জন্য প্রতি বিষয়ে চারজন করে মোট ৪৪ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তারাই ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে সামষ্টিক মূল্যায়নের মতো ডিসেম্বরেই এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার মতো নির্বাচনী পরীক্ষা থাকছে না। যেসব শিক্ষার্থী নবম শ্রেণি শেষ করে দশম শ্রেণিতে উঠবে, তারাই এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে, কোনো শিক্ষার্থী যদি দশম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ কর্মদিবসে উপস্থিত না থাকে, তাহলে সে পাবলিক মূল্যায়ন বা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির প্রেক্ষাপটে স্কুলগুলো এই শর্ত কতটা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়, তাহলে শর্ত সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে তাকে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পাস করতে হবে। তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া যাবে না। এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা পারিবারিকভাবে ততটা সিরিয়াস নয়।
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে কয়েকটি পারদর্শিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। কোনো বিষয়ে একের বেশি পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ‘প্রারম্ভিক’ স্তরে থাকলে শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না। একইভাবে, যদি কোনো বিষয়ে দুইয়ের বেশি (তিন বা তার ততোধিক) পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ‘বিকাশমান’ বা তার নিচের স্তরে থাকে, তাহলেও সে বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না। তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে পরবর্তী শ্রেণিতে (একাদশ) উত্তীর্ণ হওয়া যাবে না। তবে, পরবর্তীতে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অনুত্তীর্ণ হওয়া বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই শর্ত শিখনকালীন ও সামষ্টিক উভয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, উত্তীর্ণ বা শর্ত সাপেক্ষে উত্তীর্ণ কোনো শিক্ষার্থী মান উন্নয়নের জন্য এক বা একাধিক বা সব বিষয়ে পুনরায় পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
এদিকে, সচেতন অভিভাবক সমাজ এই নতুন কারিকুলামকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে ‘পুরোপুরি বেখাপ্পা ও ধ্বংসাত্মক’ বলে দাবি করেছে। গত ৩১ মে প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এই মন্তব্য করেন। অভিভাবকরা বলেন, কারিকুলাম চালু হওয়ার দেড় বছরের মাথায় দেশের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝতে পারবেন যে, তথাকথিত স্মার্ট নাগরিক বানানো ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরির এই কারিকুলামের মাধ্যমে যেটুকু লেখাপড়া ছিল, তাও শেষ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতা এবং পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নিত্যনতুন নির্দেশনা দেওয়া ও বাতিল করার ‘হ-য-ব-র-ল’ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক আজ অসহায় এবং অভিভাবকরা নিরুপায়।
অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। তারা ভালো মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ভালো শিক্ষক, তাদের ভালো বেতন, ভালো প্রশিক্ষণ, স্বাধীনতা এবং স্কুল-কলেজের ওপর থেকে ‘দুষ্কৃতকারী ব্যবস্থাপনা কমিটির’ অপসারণ ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব না করে শিক্ষার উন্নয়নের নামে যা করা হচ্ছে, তাতে শিক্ষার আরও পতন ঘটছে।
সাতটি স্কেলে যে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে, তাতে ‘বিশাল গ্যাপ, ঘাপলা ও বিরাট অস্পষ্টতা’ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এখানে বৃত্তের মান শূন্য এবং চতুর্ভুজের মান নেতিবাচক ধরা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র ত্রিভুজের মান ইতিবাচক যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। বৃত্তের মান শূন্য হওয়ায় তা গণনায় আসবে না এবং চতুর্ভুজের মান নেতিবাচক হওয়ায় অর্জিত ত্রিভুজের মান থেকে বাদ যাবে। ফলে শূন্যের নিচে ফলাফলকে নেতিবাচক পারদর্শিতা হিসেবে ধরা হবে। এই ধরনের ফর্মুলায় পৃথিবীর কোথাও যোগ্যতা বা পারদর্শিতা পরিমাপ করা হয় না। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়নে গ্রেডিং পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয় এবং বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য যে ফর্মুলা নেওয়া হয়েছে, তাকে ‘discrimination index formula’ বলা হয়, যা সাধারণত বড় আকারের পরীক্ষা যেমন জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ)-এর জন্য প্রশ্নপত্রের কঠিন ও সহজ অংশ যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা পরিমাপে নয়। শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা বা পারদর্শিতাকে নেতিবাচক মান দিয়ে প্রকাশ করার ধারণা পৃথিবীর কোথাও নেই।
কেউ কেউ বলছেন যে, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও মূল্যায়নের পর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা সফল হওয়া গেছে, তা বোঝা যাবে। তবে, এই পুরো ব্যবস্থার কারণে যত শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের দায় নেওয়ার কেউ নেই বলে মন্তব্য করেছেন একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ। অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যার এই কারিকুলামের সুফল দেখতে ৫-৭ বছর অপেক্ষা করতে বলেছেন, কিন্তু বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা বা ইংরেজি কোনো বইই দেখে পড়তে পারছে না। এ অবস্থায় দক্ষতা বা যোগ্যতা অর্জন সুদূর পরাহত। কল্পনায় শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা ও আনন্দের মাধ্যমে শিখছে ভাবা হলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাঠ্যবইয়ে দু-একটি অধ্যায় ছাড়া আনন্দের ছিটেফোঁটাও নেই।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক (সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর- ভাব বাংলাদেশ) বারবার লিখিত পরীক্ষা রাখার কথা বলেছেন, অন্তত ৫০ শতাংশ লিখিত ও ৫০ শতাংশ কার্যক্রমভিত্তিক পরীক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু এনসিটিবির কর্তারা লিখিত পরীক্ষাকে ‘নোট-গাইডের ব্যবসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সব পরীক্ষাতেই লিখিত পরীক্ষা থাকার উদাহরণ দেওয়া হলে, এনসিটিবির কর্তারা সেগুলোকে ‘বাণিজ্যিক পরীক্ষা’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের পরীক্ষাকে ‘আসল পরীক্ষা’ বলে দাবি করেন। পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে লিখিত পরীক্ষার দাবি উঠলে এবং নতুন মন্ত্রী লিখিত পরীক্ষার ইঙ্গিত দিলে, হঠাৎ করে ৬৫ শতাংশ লিখিত ও ৩৫ শতাংশ কার্যক্রমভিত্তিক হওয়ার কথা বলা হয়, যা তাদের সঠিক পরিকল্পনার অভাবকেই নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন কোন দেশের মডেল পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং কোন কোন দেশে এই মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, তা অভিভাবকসহ দেশের শিক্ষিত ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সামনে সরাসরি উপস্থাপন করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি।
আমাদের দেশে ‘ব্যথা হয়েছে ঘাড় কেটে ফেলো’ জাতীয় বহু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও এমন অনেক প্রকল্প আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্প। অক্টোবর ২০২০ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৯৮ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক (৩ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা বা ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার)। সরকারের বিনিয়োগ ৪৮ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে লেইস প্রজেক্ট গ্রহণের জন্য সরকারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই লেইস প্রকল্পের তিনটি মূল লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও সহনক্ষমতা উন্নয়ন। নতুন শিক্ষাক্রমকে ‘সফল’ করার নামে এ ধরনের আরও অনেক প্রকল্প হয়তো আসবে, কিন্তু সমস্যার গভীরে কেউ যাচ্ছে না।
আয়না ভেঙে গেলে তা কার্যকারিতা হারায় এবং জোড়া দেওয়া যায় না, বরং বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে হয়তো ভাঙ্গা কাঁচের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেখা গেছে, একদল অভিভাবক মানববন্ধন করেছেন এবং সেখানে তারা বলেছেন, ‘‘শিক্ষা নিয়ে পুতুল খেলা চলবে না, আমাদের শিশুরা পুতুল না, রাষ্ট্রে শিক্ষা ব্যবস্থা দেশী-বিদেশী এজেন্সির দাস হতে পারে না। আমাদের বাচ্চারা পুতুল নয়, রাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট নাকি ডিভাইসে আসক্তি? সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা কথা বলবে না তো কে বলবে? আমরা সন্তানদের শিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্ত রুখবো, ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? প্রজেক্ট অ্যাসাইনমেন্টের নামে শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে। আমার সন্তান শুধু আমার ভবিষ্যত নয়, দেশের ভবিষ্যত। তাকে এ খেলায় মাতিয়ে রাখা হয়েছে এর দায়ভার কে নেবে? সে সারারাত মোবাইল টিপছে আর অ্যাসাইনমেন্ট করছে। মোবাইল দেখে দেখে যদি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হয়, তা নোট বইয়ের চেয়ে কম কিসে?’’
মানববন্ধনে এক অভিভাবক জানান, তার সন্তানকে সপ্তম শ্রেণিতে ছয় দফার ওপর অ্যাসাইনমেন্ট করতে বলা হয়েছে, কিন্তু কীভাবে করবে তার কোনো গাইডলাইন নেই। শিক্ষক নাকি বলে দিয়েছেন গুগল সার্চ করে বের করতে। বইয়ে তিনটি প্রশ্ন আছে— কবে ছয় দফা হয়েছে, কে ছয় দফা দিয়েছে, কোথায় দিয়েছে। বাচ্চাদের অ্যাসাইনমেন্টের নামে এসব করতে দেওয়া হচ্ছে, তাদের তথ্য জানতে বলছে নিকটবর্তী লোকজনের কাছ থেকে। তারা কাকে জিজ্ঞেস করবে আর কেইবা তাদের সঠিক উত্তর দিতে পারবে তার কোনো হদিস নেই।

