গণপূর্তের ই/এম বিভাগে মেরামত ও সংরক্ষণের নামে কোটি টাকার হরিলুট

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১-এ মেরামত ও সংরক্ষণ খাতের সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা, ভুয়া কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে ঠিকাদাররা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পগুলো ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ই/এম বিভাগ-১১-এর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম প্রতিটি প্রকল্পের রানিং ও ফাইনাল বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে বরাদ্দের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে দাবি করে আসছেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই অনৈতিক অর্থ প্রদান না করলে বিলের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ করলে তাদের ফাইলে অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হয় বা কৃত্রিম কাগজপত্রের ঘাটতি দেখিয়ে বিলের অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখা হয়।

সরকারি নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অধীন এই বিভাগে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এর সিংহভাগই কাগজে-কলমে ভুয়া কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আবাসিক ভবন কোডে (৩২৫৮১০৬) ৭৩টি কাজের বিপরীতে ৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং অনাবাসিক ভবন কোডে (৩২৫৮১০৭) ৩৮টি কাজের বিপরীতে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মোট ১১১টি কাজের জন্য ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার বড় অংশই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লোপাট হয়েছে।

অনেক সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও অনাবাসিক ভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাদের ভবনে কোনো বৈদ্যুতিক তার পরিবর্তন, পাম্প মেরামত বা জেনারেটরের কাজ করা হয়নি। অথচ নথিপত্রে কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে ভুয়া ভাউচার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করে কোড বহির্ভূত কাজে ব্যয় এবং পূর্ববর্তী বছরের ভুয়া বকেয়া পরিশোধ দেখানোর অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

এই দুর্নীতির বিষয়ে একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা নেই এমন অসংখ্য বেনামি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্কলন পাসের জন্য ফাইল তার দপ্তরে আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তিতে ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ছাড় করা হয়।

যার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তিতে ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় বিভাগটি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত