ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যুগের অবসান হলো। বিশ্বমঞ্চে শূন্য হলো এক কিংবদন্তি ফুটবলারের আসন। রোনালদো আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি যে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা হয়তো তিনি ভাবেননি। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ৭০ হাজার দর্শক এই ঐতিহাসিক লড়াইটি দেখতে ভিড় করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের বিদায় এবং রোনালদোর চোখের জলই ছিল ম্যাচের চূড়ান্ত পরিণতি।
ম্যাচের অধিকাংশ সময় সমানে সমান লড়াই চললেও শেষ মুহূর্তে পর্তুগালের রক্ষণভাগের অসতর্কতা কাল হয়ে দাঁড়ায়। পেনাল্টি বক্সের বাইরে একটি ফাউল থেকে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেন ম্যাচে জেগে ওঠে। ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাসে বল পেয়ে মিকেল মেরিনো সোজা পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে দেন। যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় মেরিনোর এই গোলটিই রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের শেষ স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়।
ম্যাচের সেই মুহূর্তে রোনালদোর অসহায় চাহনি ক্যামেরায় ধরা পড়ছিল। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, শেষ মুহূর্তে এমন বিপর্যয় ঘটবে না। অথচ ফুটবলের অনিশ্চয়তা তাকে বিদায় নিতে বাধ্য করল। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এখনও আসরে টিকে থাকলেও রোনালদো তার প্রিয় পর্তুগালকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন পর্তুগাল এবার ছন্দময় ফুটবল উপহার দিচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তব রূপ পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রোনালদোর এই বিদায় যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। এর আগে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনাও ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এই দেশ থেকেই বিদায় নিয়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও আল নাসরের মতো ক্লাবে খেলা রোনালদো পর্তুগালকে একাধিকবার বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও বিশ্বকাপ শিরোপা তার অধরা থেকে গেল, তবে তিনি উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন।
ম্যাচ শেষে রোনালদোকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল, তিনি বারবার মাঠের দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের উঠতি তারকা লামিন ইয়ামাল এদিন খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ফুটবলের ইতিহাস লিখতে গেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম অনিবার্য। পেলে, ম্যারাডোনা, রোনালদো ও মেসির মতো তারকারাই তো ফুটবলকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
ফুটবলের এই মহাতারকা হয়তো ভেবেছিলেন—আর যাইহোক, ৬ মিনিটে গোল হবে না।

