সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি সমর্থনযোগ্য নয়: প্রতিমন্ত্রী নুর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, গত সাড়ে পাঁচ মাসে যারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের কর্মকাণ্ড মূলত হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিবেচনাপ্রসূত। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কাউন্সিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি কোনো বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নুর বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম গণহত্যা চালিয়ে যারা দেশকে নরকের মতো অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল, সেই ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া গোষ্ঠী এখন নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় সিভিল বা মিলিটারি ক্যুর মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি সবাইকে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো উসকানিমূলক কার্যক্রমে পা না দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রশাসনের কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনকে টপ টু বটম জনবান্ধব ও প্রো-পিপল হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অফিস-আদালতে সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। প্রবাসীদের ভোগান্তি লাঘবে খুব শীঘ্রই প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড আপগ্রেডের দাবিকে তিনি যৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো প্রথমে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী সংসদে পে-স্কেল নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে এর বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার স্বার্থে তাদের বেতন যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর পক্ষেও কথা বলেন তিনি। নুর জানান, মন্ত্রীদের ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং এমপিদের ৫ লাখ টাকা বেতন হওয়া উচিত, কারণ এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার জন্য তাদের নয়-ছয় করে সামাল দিতে হয়। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদরের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি আন্দোলনের সভা প্রধান তাসলিমা আখতার, জাতীয় শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. সাকিব শাহরিয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ অন্যরা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কাউন্সিল-২৬ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত