সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং পেশাগত মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও মানবসম্পদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে না পারি এবং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সম্মানি বৃদ্ধি করতে না পারি, তবে তাদের কাছ থেকে মানসম্মত ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি তাদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এ কাজটি আমরা অবশ্যই করব।
এর আগে সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকরা ১১ হাজার এবং মাধ্যমিক শিক্ষকরা ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন, তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
প্রধানমন্ত্রী তার জবাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার চলতি বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষকদের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন কম হওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তাড়াহুড়ো করে ক্লাস শেষ করে দ্বিতীয় কোনো চাকরি বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষকরা যেন দ্বিতীয় কোনো পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য না হন এবং নিজেদের মেধা ও সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পুরোপুরি ব্যয় করতে পারেন, সেজন্য তাদের সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

