বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং ও ভিএআর প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসরের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। মূলত দুটি ঘটনার কারণে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মিসরের দাবি, তাদের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও তা কেন বহাল রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি মূলত গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড এবং ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়ার মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।
ভিএআর প্রযুক্তির কার্যকারিতা বোঝার জন্য এর নিয়মগুলো জানা জরুরি। এবারের বিশ্বকাপে ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি ছবি বা ফ্রেম তোলে, যার ফলে প্রতিটি ফ্রেমের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২০ মিলি সেকেন্ড। এছাড়া বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠায়, যা মাঠের যেকোনো সূক্ষ্ম ঘটনা ধরতে সক্ষম। ভিএআর কেবল তখনই রিভিউ করে যখন সেটি কোনো গোল বা পেনাল্টির সাথে সম্পর্কিত হয়।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে মিসরের মোস্তফা জিকোর গোলটি বাতিল করা হয় কারণ আক্রমণের শুরুতে মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আত্তিয়া মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন এবং তার পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সাথে একমত হয়ে গোলটি বাতিল করেন।
অন্যদিকে, ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলের আগে পেনাল্টির আবেদন করেছিলেন মিসর। মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন। তবে ভিএআর পরীক্ষার পর দেখা যায়, সেটি ফাউল ছিল না। দুজনের বুট স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সংস্পর্শে এসেছিল, যা মূলত গতির কারণে ঘটেছিল। সালাহ অহেতুক মাটিতে পড়ে যাওয়ায় রেফারি কোনো পেনাল্টি দেননি এবং আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা হয়। মাঠের রেফারি ও ভিএআরের মধ্যে এই আলোচনাগুলো নিয়মিত হেডফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা দর্শক সবসময় সরাসরি দেখতে পান না।

