উন্নত জীবনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার
উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ফয়সল। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মুক্তিপণের টাকা জোগাতে পরিবার তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রি করে দিলেও, ফয়সল এখনও মুক্তি পাননি। এই অবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে অসহায় পরিবার।
ফয়সলের গ্রামের বাড়ি ও পারিবারিক তথ্য
সরেজমিনে ফয়সলের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলা হয়। তিনি ওই গ্রামের মদরিস আলীর ছেলে। ফয়সলের মা মিনারা বেগম জানান, দেশে এসএসসি পাসের পর বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হলেও ফয়সলের আর পড়ালেখা করা হয়নি। ২০২৩ সালে গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি লিবিয়ায় পাড়ি জমান।
ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন ও মানবপাচার চক্রের ফাঁদ
দীর্ঘদিন লিবিয়ায় অবস্থানের পর ফয়সল ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তিনি নবীগঞ্জের এরশাদ আলী নামের এক দালালের সাথে চুক্তি করেন। দালাল তাকে অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠানোর জন্য ‘লিবিয়া গেম’-এ যুক্ত করে।
পুলিশের হাতে আটক ও মাফিয়া চক্রের হাতে বিক্রি
অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে ফয়সল লিবিয়া পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাদের কাছ থেকে তাকে একটি মানবপাচারকারী চক্র (মাফিয়া চক্র) কিনে নেয়। এরপর থেকেই চক্রটি ফয়সলকে জিম্মি করে ভিডিও কলে তার পরিবারের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে।
ভিটেমাটি বিক্রি করেও মুক্তি মেলেনি
একদিন পর চক্রটি নির্যাতনের চিত্র দেখিয়ে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর ৬ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে রাজি হলে, ফয়সলের পরিবার তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রি করে দেয়। দালালের দেওয়া দেশীয় বিকাশ নম্বরে সেই টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা পেয়েও চক্রটি ফয়সলকে মুক্তি দেয়নি, বরং বাকি টাকার জন্য পুনরায় নির্যাতন শুরু করে।
পরিবারের আকুতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
ফয়সলের অসহায় মা মিনারা বেগম যেকোনো মূল্যে তার ছেলেকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজ আরব খান জানান, ফয়সলের পরিবার বাড়ি বিক্রি করে মুক্তিপণ দিলেও মাফিয়া চক্র তাকে মুক্তি দেয়নি। বিষয়টি থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় আনা হয়েছিল। যে বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেন হয়েছে, তার সূত্র ধরে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

