অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে ইনজুরির ধাক্কা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে বড় ধরনের ইনজুরি সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার কুয়েনা মাফাকা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন, যার ফলে তিনি ক্যাসিগো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি এবং ওটনিয়েল বার্টম্যানের তালিকায় যুক্ত হলেন। এই চার পেসারই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন। তাদের সম্মিলিত ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা ১৯২টি ম্যাচ, যা দলের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

মাফাকার পরিবর্তে দলে ডাক পাওয়া লিজাড উইলিয়ামস বৃহস্পতিবারের ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মার্কো জ্যানসেন, ডুয়ান জ্যানসেন, করবিন বশ এবং জেরাল্ড কোয়েটজেকে নিয়ে গঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ এখনো বেশ শক্তিশালী, তবুও নিয়মিত চার পেসারকে হারানো স্বাগতিক দলের জন্য বড় আঘাত। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা আক্ষেপ করে বলেন, রাবাদা বা এনগিডির মতো বোলারদের রাতারাতি প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব। দলের এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছুটা অসহায় বোধ করছেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলোয়াড় রোটেশন নীতি বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে। ৯ অক্টোবর একই ভেন্যুতে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ায় প্যাট কামিন্সকে সিরিজের তিনটি ওয়ানডেতে নিয়মিত দেখা না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কামিন্সের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা হতে পারেন নাথান এলিস, যিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ৯টি উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। মিচেল মার্শ সিরিজের অধিনায়কত্ব করবেন এবং দলের অন্য ক্রিকেটারদেরও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে।

ডারবানের কিংসমিডে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সিরিজটি শুরু হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে এবং আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বোলারদের জন্য সুইং সহায়ক হতে পারে। এই ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত ৪৭টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তিনশ বা তার বেশি রানের সংগ্রহ দেখা গেছে নিয়মিতই। কিংসমিড এখন পর্যন্ত ২৩টি শতক এবং চারটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখেছে, যার সবগুলোই ছিল পেসারদের দখলে।

সাউথ আফ্রিকার একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে ইনজুরি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ডেভিড মিলারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার তাদের আশার আলো। কিংসমিড স্টেডিয়ামে মিলারের দারুণ রেকর্ড রয়েছে, যেখানে তিনি দুবার তিন অংকের জাদুকরী ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া প্রায় দুই মাস পর এইডন মার্করাম দলে ফিরছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে ক্যামেরন গ্রিন কাঁধের চোট কাটিয়ে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেষ পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে কিংসমিডের গত ১০টি ওয়ানডে ম্যাচের অর্ধেকের বেশি সাফল্য এসেছে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই সিরিজ উভয় দলের জন্যই কন্ডিশন বুঝে নেওয়ার বড় সুযোগ। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা যেখানে বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জয়ের স্বপ্নপূরণে মরিয়া, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পারফরম্যান্স যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

সিরিজের সম্ভাব্য একাদশে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টনি ডি জোরজি, কুইন্টন ডি কক, টেম্বা বাভুমা, ম্যাথু ব্রিটজকে, ট্রিস্টান স্টাবস, ডেভিড মিলার, মার্কো জ্যানসেন, করবিন বশ, কেশব মহারাজ, জেরাল্ড কোয়েটজে ও লিজাড উইলিয়ামস থাকতে পারেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশে মিচেল মার্শ, ট্র্যাভিস হেড, কুপার কনলি, জশ ইংলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, অলিভিয়ার পিক, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্কের নাম শোনা যাচ্ছে।