নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনার সামনে আজ ১৬ বছর পর শিরোপা জয়ের সুযোগ থাকা স্পেনের কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় জুড়ে স্পেনের দাপট ছিল স্পষ্ট, আর তাদের আক্রমণের মুখে কোনোমতে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট এবং বিরতির পরের ২২ মিনিটেও স্পেনকে শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা গেছে।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল খাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতর বল পেয়ে ইয়ামালের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর ৩৮ মিনিটে মিকেল ওইয়েরজাবালের একটি শটও সহজেই রুখে দেন এমি। প্রথমার্ধে স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ এবং তারা আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে মার্ক কুকুরেয়ার বাম পায়ের একটি শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৪০ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ প্রতিপক্ষ অর্ধেই ফাউল করায় ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। কিছু সময় পর চোটের কারণে লিসান্দ্রো মাঠ ছাড়লে ৪৪ মিনিটে তার স্থলাভিষিক্ত হন নিকলাস ওতামেন্দি।
মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের অনুপস্থিতিতে ৪ জনের মিডফিল্ড নিয়ে বেশ চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। বিরতির ঠিক পরেই আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি নিকো গনজালেসকে তুলে নিয়ে পারেদেসকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। এর আগে দানি অলমোর কাটব্যাক থেকে কুকুরেয়ার জন্য বল বাড়ালে গনজালো মন্তিয়েল দারুণভাবে তা ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হেলিকপ্টারে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং জয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে তার। ১৯৭৮ সালে মারিও আলবার্তো কেম্পেস এবং ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার হাত ধরে দুই দল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় করেছিল।
ফাইনালে আর্জেন্টিনা একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে। নাহুয়েল মলিনার জায়গায় গঞ্জালো মন্তিয়েল, জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় রদ্রিগো দে পল এবং ফিটনেস সমস্যার কারণে পারেদেসের পরিবর্তে নিকোলাস গঞ্জালেসকে একাদশে রাখা হয়েছে। আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত একাদশ হলো—এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গঞ্জালেস, লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে স্পেনের একাদশে রয়েছেন সিমন, পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া, রদ্রি, রুইজ, ইয়ামাল, ওলমো, বায়েনা ও ওইয়েরজাবাল।

