নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপট দেখিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে বড় জয়ের নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক শর্মা, যিনি মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিউইদের হয়ে ড্যারিল মিচেল ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন। এছাড়াও ফিন অ্যালেন ৪০ রান এবং বেভন জ্যাকবস অপরাজিত ৩৯ রান সংগ্রহ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত মাত্র ১৩.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন ১৫ বছর বয়সী তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। তিনি ১৮ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। বৈভব ও অভিষেক মিলে মাত্র ৭.১ ওভারে ১৩৩ রান যোগ করেন। এরপর অভিষেক শর্মা কিউই বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মাত্র ১৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর তিনি ৩৫ বলে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন। তাঁর ১১৩ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি বিশাল ছক্কা। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। এর ফলে বিরাট কোহলি, ডেভিড ওয়ার্নার ও কুইন্টন ডি কককে পেছনে ফেলে সেঞ্চুরির তালিকায় এগিয়ে গেলেন তিনি। কোহলি বর্তমানে ১০টি সেঞ্চুরি নিয়ে চারে অবস্থান করছেন। ওপেনিংয়ে নেমে দারুণ এক শুরু এনে দিয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। ২০০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে চার-ছক্কার তুফান তুললেন অভিষেক শর্মা। এই সেঞ্চুরির সুবাদে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিকদের তালিকায় বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলেছেন অভিষেক।
এই ম্যাচে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ভারত। মাত্র ৫ ওভার বা ৩০ বলেই দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করে তারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম দলীয় শতরানের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২১ সালে রোমানিয়া সার্বিয়ার বিপক্ষে ৫ ওভার ২ বলে ১০০ রান করেছিল। অভিষেক আউট হওয়ার পর সঞ্জু স্যামসন ও শ্রেয়স আইয়ার বাকি কাজটুকু শেষ করেন। চার উইকেট হারিয়ে ১৩.২ ওভারেই জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে ভারত। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ায় টিম ইন্ডিয়ার আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

