ক্রিকেটের লাল বলের সংস্করণে আট নম্বর পজিশনে নামা একজন ব্যাটারের মূল দায়িত্ব থাকে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলীয় সংগ্রহ কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া। তবে বল হাতে কাটার ও সুইংয়ের জাদুকর পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম প্রায় তিন দশক আগে ব্যাট হাতে এমন এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছিলেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য হয়ে রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা খেলোয়াড়ের প্রধান কাজ থাকে উইকেট ধরে রেখে রানটা কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবরের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেখুপুরা টেস্টে তৎকালীন পাকিস্তান অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম আট নম্বরে ক্রিজে প্রবেশ করেন। মাঠে নেমেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ৩৬৩ বলে ২৫৭ রানের এক অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস উপহার দেন এই বাঁহাতি। তার চার-ছক্কার ঝলকানিতে ভরা এই ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ১২টি ছক্কার মার। টেস্টে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের এই রেকর্ডটি আজও অক্ষুণ্ন রয়েছে। পাশাপাশি এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ভাঙেন ইংরেজ ব্যাটার ওয়ালি হ্যামন্ডের বহু বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড। মাঠে নামার পর থেকেই তার ব্যাটিংয়ে ছিল প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মেজাজ ও চমৎকার টাইমিং। জিম্বাবুয়ান বোলারদের তোপ দাগিয়ে একের পর এক বল সীমানা পার করতে থাকেন তিনি।
সেই ঐতিহাসিক ইনিংসে ওয়াসিমের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়েন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। এক প্রান্তে আকরামের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর অন্যপ্রান্তে সাকলাইনের ৩৫৯ বলে ৭৯ রানের ধৈর্যশীল লড়াইয়ে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্রতে সমাপ্ত হলেও ফলাফলকে ছাপিয়ে আকরামের ওই অনবদ্য ২৫৭ রান ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। রিভার্স সুইং ও ইয়র্কারের জন্য চেনা ওয়াসিম আকরাম যে ব্যাট হাতেও অনন্য নজির গড়তে পারেন, শেখুপুরের এই ইনিংসই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বল হাতে যার বৈচিত্র্যময় সুইং সামলাতে ব্যাটাররা হিমশিম খেতেন, সেই ওয়াসিমই সেদিন ব্যাট হাতে হয়ে উঠেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের এক বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ওয়াসিম আকরামের এই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা হয়ে যায়।

