ইতালিতে সহিংসতা দমনে কঠোর আইন ও সেনা মোতায়েন

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা আইন এবং নতুন প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।

সোমবার ২০ অক্টোবর মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ররোচনায় মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া ও বেরগামোর মতো বড় শহরগুলোতে তরুণ ও কিশোরদের একটি দল ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলায় জড়িয়ে পড়ে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। জায়দুল হক সোহেল, ইতালি সাম্প্রতিক সময়ে মিলানসহ দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন সহিংস বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রোম প্রশাসন। এই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

নতুন এই অধ্যাদেশের আওতায় ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার আগেই গ্রেফতার ও আটকের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের কঠোর বার্তা অনুযায়ী, অপরাধের ক্ষেত্রে বয়সের বিচার না করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের আড়ালে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর বা বিপজ্জনক বস্তু নিক্ষেপ করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করাকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, সহিংস বিক্ষোভে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিচার ও আগাম গ্রেফতারের (প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন) পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বয়স যাই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার কড়া খেসারত দিতে হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মিলান শহরে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অন্তত ৫০০ জন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেলোনি প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এই সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক মদদ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে দক্ষিণ ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাক চালকদের ধর্মঘটের ফলে সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সামাজিক অস্থিরতা মেলোনি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের এই কঠোর নীতির বিপরীতে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, তরুণদের বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি ও আবাসন সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এড়িয়ে প্রশাসন কেবল পুলিশি দমনপীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর মেলোনি সরকারের নিরাপত্তা নীতিগুলো বাস্তবায়নের ফলে গত চার বছরে ইতালির কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ১৭ শতাংশের বেশি বা প্রায় ১০ হাজার জন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মেলোনি সরকারের বিভিন্ন কঠোর নিরাপত্তা নীতির ফলে বিগত চার বছরে ইতালির কারাগারগুলোতে বন্দী সংখ্যা ১৭ শতাংশেরও বেশি (প্রায় ১০,০০০ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে।

উলেখ্য, সামগ্রিক পরিস্থিতির বাইরেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি নারীদের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে বাংলাদেশের বিলকিস খাতুন ‘১০০ উইমেন হিরোজ’ সম্মাননা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির স্টুটগার্টে দুর্গাবাড়িতে শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজনের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।