পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা এই কোম্পানিটির সার্বিক অনিয়ম অনুসন্ধানে প্রাথমিক পর্যায়েই বিপুল এই রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, রেয়াতি সুবিধায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তার একটিও পরিপালন করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই সুবিধার আওতায় তারা মোট ৫২৫টি যন্ত্র আমদানি করে, যেখানে কাস্টমস ডিউটি হিসেবে শূন্য বা মাত্র ১ শতাংশ কর দেওয়া হয়। অথচ আইন অনুযায়ী এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। শুধু এই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমেই উইলিয়ামস সোয়েটার্স ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে বলে জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা।
এর আগে শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধার অপব্যবহার করে আরও ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে কোম্পানিটি। চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে তারা মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং প্রযোজ্য করের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানিকৃত এই কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানিতে ব্যবহার না করে সরাসরি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এনবিআরের।
এনবিআরের সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির নানা মারাত্মক অসংগতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে বন্ড রেজিস্টার না রাখা, আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হওয়া এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহারের তথ্য গোপন বা অস্পষ্ট রাখার মতো গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।

