উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের সকল দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। উন্নয়নের অধিকার ঘোষণার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনরা অংশ নেন। বক্তব্যে শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার এবং এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী সরকারের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখে, যেখানে কোনো নাগরিকই পিছিয়ে থাকবে না।
উন্নয়নের অধিকারকে কার্যকর করতে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করা, উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ তৈরি করা। এছাড়া উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

