এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ফর্টিস এফসির। তবে কুয়েতের হাওয়ালির মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশের এই ক্লাব। তাজিকিস্তানের দল এফসি রেগার-তাদাজের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও, দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ফর্টিস। প্রতিযোগিতার মূল পর্বে এটিই বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের প্রথম জয়। প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর শেষ ম্যাচটি ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুয়েতের হাওয়ালিতে মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি ফর্টিসের। তবু হতাশার সেই অভিযান শেষ হলো বড় এক প্রাপ্তিতে।
ম্যাচের ১২ মিনিটে শেরজোদ মাখামাদিয়েভের গোলে এগিয়ে যায় রেগার-তাদাজ। তবে ১৭ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়, যখন ফর্টিসের জাপানি মিডফিল্ডার নরিকি আকাদাকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাজিক ক্লাবের ডিফেন্ডার তকাম সেভেরিন। এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে বাধ্য হয় রেগার-তাদাজ। যদিও প্রথমার্ধে এই বাড়তি সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ফর্টিস এবং ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে বদলে যাওয়া রূপ দেখায় ফর্টিস। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুর সহায়তায় আক্রমণের ধার বাড়িয়ে গোল আদায় করে নেয় দলটি। ৬৭ মিনিটে রাফায়েল টুডু দুর্দান্ত এক ব্যাকহিলে দলকে সমতায় ফেরান। এর চার মিনিট পরই ৭১ মিনিটে শিয়ান কাওয়াসাকির গোল থেকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস। নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর শিয়ান এই গোলটি করেন। ৭১ মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ফর্টিস। তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে তিন গোল আদায় করে নেয় ফর্টিস। কর্নার থেকে আসা বলে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন শিয়ান কাওয়াসাকি।
ম্যাচের শেষ দিকে ৮৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জাপানি মিডফিল্ডার শুকি ইতোফুসা চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন। পা ওমর বাবুর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকেই এই গোলটি আসে। এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আল কাদসিয়ার কাছে ৩-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে এফসি গোয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ফর্টিস। মাঠ ছাড়ার আগে এই জয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশের ক্লাবটি। গোলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশের দলটিকে।

