ওমানের আল আমেরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল টাইগার যুবারা। কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পেরে শেষ দুই ম্যাচের দুটিতেই পরাজিত হয়ে সিরিজ হাতছাড়া করতে হয়েছে সফরকারীদের। সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২১৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ফরিদ হাসান ফয়সাল এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন। ১৪৫ বলে ৮২ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া আল আমিন হোসেন ২৯, আল মুমিন ২৩ এবং অনিক ২২ বলে ২৯ রান করেন। দলের ইনিংসের শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট পতনের পর আল আমিনের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন ফয়সাল। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ পাওয়া সম্ভব হয়নি। ২৯ রান করা আল আমিনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন লুতফুল্লাহ মোহাম্মদী। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই আবদুল্লাহ আল মুহি ও কাউসার আহমেদের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক ফরিদকে সঙ্গ দিয়েছেন আল মুমিন। ৪১ বলে ২৩ রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে। রান তাড়ার শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানেরও। অধিনায়কের ওই ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২১৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
২১৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তানের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে আল আমিন হোসেনের বলে প্রথম উইকেট হারায় তারা। পাওয়ার প্লের পরবর্তী ওভারে ফরিদুল্লাহ ইহসাসকে সাজঘরে ফেরান ফারহান সাদিক। ৩৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর সুবহান আলী ও নোমান সালারজাই জুটি বেঁধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর রবিউল হাসান অনিকের বলে নোমান (২৪) ও পরে সুবহান (৬০) আউট হন। ৩৪ বলে ২৪ রান করা নোমানকে ফেরান তিনি।
আফগানিস্তানের ব্যাটার ফয়সালকে ১৮ রানে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন আল আমিন। শেষদিকে অধিনায়ক সোহাইল খান ১৮ রানে ফিরলেও তাহেরের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত হয় আফগানদের। তাহের ৭৬ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে ১১ বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আল আমিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট লাভ করেন। জবাব দিতে নেমে ১১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগান যুবারা।

