জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে একপেশে ম্যাচে সাত উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। রশিদের ঘূর্ণি ও পেসারদের তোপে জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর ইব্রাহিম জাদরানের অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৩৪.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানরা। এই জয়ের ফলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই সিরিজ শেষ করল হাশমতউল্লাহ শহিদির দল।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল বিপর্যয়কর। ফজলে হক ফারুকি ও বিলাল সামির তোপে ২৬ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ব্রায়ান বেনেটকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই আউট করার আগে ফারুকি সাজঘরে পাঠান তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও তাফাদজওয়া সিগাকে। এরপর ব্রেন্ডন টেলরকেও ফেরান সামি। জিম্বাবুয়ে ৫৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। রাজা ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৭তম ফিফটি তুলে নিয়ে ৬৮ রান করেন এবং বার্ল করেন ৩১ রান। তাদের ৬০ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নবি। এরপরই নবি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৩০০তম উইকেট পূর্ণ করেন ওয়েসলি মাধেভেরেকে স্টাম্পিং করে।

নিচের দিকে রশিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে আর বড় স্কোর গড়তে পারেনি। তিনি ব্র্যাড ইভান্স ও নিউম্যান নিয়ামহুরিকে ফেরানোর পর শেষদিকে রাজাকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। শেষ উইকেটে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩২ রানের একটি লড়াই করলেও ৪৩.৩ ওভারে জিম্বাবুয়ে ১৬৯ রানে অলআউট হয়। রশিদ ৪১ রানে নেন ৩টি উইকেট এবং নবি ২৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান দুর্দান্ত সূচনা করেন। গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রান করে নিয়ামহুরির বলে আউট হন। এরপর সিদ্দিকউল্লাহ আটাল দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও ইব্রাহিম জাদরান এক প্রান্ত আগলে রাখেন। রহমত শাহ ৪৩ রান করে দারুণ সঙ্গ দেন। এই দুজনে তৃতীয় উইকেটে ৮২ রান যোগ করেন। অবশেষে ওয়েসলি মাধেভেরের এক দুর্দান্ত ক্যাচে রহমত শাহ বিদায় নিলে অধিনায়ক শহিদী ক্রিজে আসেন। শেষ পর্যন্ত শহিদী ও জাদরান সাবলীলভাবে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ৪৩.৩ ওভারে ১৬৯ অলআউট (সিকান্দার রাজা ৬৮, রায়ান বার্ল ৩১; রশিদ খান ৩-৪১, মোহাম্মদ নবি ২-২৫)। আফগানিস্তান ৩৪.৩ ওভারে ১৭০/৩ (ইব্রাহিম জাদরান ৭০*, রহমত শাহ ৪৩; নিউম্যান নিয়ামহুরি ২-৩০)। সাত উইকেটে জয়ী আফগানিস্তান।