২০২৬-২৭ এডিআইবি কাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আজমান। শুক্রবার রশিদ বিন সাঈদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গেমউইক ৩-এর ম্যাচে তারা ১-০ ব্যবধানে বানি ইয়াসকে পরাজিত করে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ৮৩তম মিনিটে ইয়াসিন জাবরির পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ জুমা ঈদ জয়সূচক গোলটি করেন। এই জয়ের ফলে আজমান তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। বানি ইয়াস তাদের প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে এবং তারা ছয় পয়েন্টে আটকে রয়েছে। প্রথমার্ধে আজমান ৫৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করে, যেখানে বানি ইয়াসের দখলে ছিল ৪৬ শতাংশ বল। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম আজমান এডিআইবি কাপে টানা তিনটি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ল, পাশাপাশি বানি ইয়াসের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম ক্লিনশিট রাখল তারা।
আল নাসরের দাপুটে জয় ও পরিসংখ্যান
- আল মাকতুম স্টেডিয়ামে হাত্তার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে আল নাসর।
- ম্যাচের ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হাত্তাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন বার্নার্ড ফায়ে।
- আল নাসরের কেভিন আন্দ্রেস আগুডেলো ৩২তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন।
- দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪তম মিনিটে আগুডেলো নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে লিড এনে দেন।
- ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে গাইথ ওয়াহাবি আত্মঘাতী গোল করলে আল নাসর ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
- ৮৩তম মিনিটে রামোন মিরেজ জোরালো হেডে গোল করে দলের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
- আল নাসর প্রথমার্ধে ৬৮.৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে এবং পাঁচটি শট অন টার্গেটে রেখেছিল।
- এই জয়ের ফলে আল নাসর সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
- কেভিন আন্দ্রেস আগুডেলো তার শেষ আট ম্যাচে চারটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে মোট সাতটি গোলে অবদান রেখেছেন।
আল ওয়াসলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
অন্যদিকে, সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি স্টেডিয়ামে আল ওয়াসল ২-১ গোলের ব্যবধানে Khorfakkan-কে হারিয়েছে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৭তম মিনিটে হালিরু সার্কির গোলে পিছিয়ে পড়ে আল ওয়াসল। তবে ৭৭তম মিনিটে মেহদি তারেমি শক্তিশালী হেডে গোল করে সমতা ফেরান। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০+৩তম মিনিটে সোফিয়ান বাউফতিনি গোল করে দলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। সফরকারী আল ওয়াসল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রেখে তাদের জয়ের ধারা বজায় রেখেছে। আল নাসর এবং আজমানের মতো তারাও প্রতিযোগিতায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিটি দলই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের মাধ্যমে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। হাত্তা এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করছে, যেখানে আল নাসর তাদের পয়েন্ট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এই জয়ের ফলে আল নাসর এবং আজমান দুই দলই পরবর্তী রাউন্ডের জন্য তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। আজমানের রক্ষণভাগ এদিন বেশ সজাগ ছিল, যা বানি ইয়াসকে কোনো সুযোগ নিতে দেয়নি। অন্যদিকে, আল ওয়াসলের অদম্য মানসিকতা প্রমাণ করে তারা এই আসরের শিরোপার অন্যতম দাবিদার।

