ইংল্যান্ডের একটি আধিপত্যপূর্ণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে। স্বাগতিকরা ২২৩ রানের বিশাল এক জয় তুলে নিয়েছে। টম ব্যান্টনের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির পাশাপাশি হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের ফিফটি ইংল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ৩৫৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ এনে দেয়। ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইংল্যান্ড এই বিশাল পুঁজি গড়ে। জবাবে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে কুশল মেন্ডিসের ৩৫ রানই ছিল সর্বোচ্চ। লিয়াম ডসন ও গাস অ্যাটকিনসন পাঁচটি উইকেট ভাগ করে নিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ের পথ সুগম করেন। এই জয়টি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে তাদের টানা পঞ্চম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব এনে দিয়েছে।
ইনিংসের শুরু এবং ব্যান্টনের সেঞ্চুরি
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে পাঁচ বলে শূন্য রানে ফেরেন বেন ডাকেট। এরপর জো রুট ও ব্যান্টন জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন এবং ১০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডকে ৫০ রানে পৌঁছে দেন। ব্যান্টন ধারাবাহিকভাবে রান তুলে নিজের প্রথম ছক্কাটি হাঁকান ১৪তম ওভারে মাদুশঙ্কাকে আপার-কাট করে। রুট নবম ওভারে স্লিপে জীবন পেলেও রান তুলতে সংগ্রাম করেন এবং টানা ১২টি ডট বল খেলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬২ রান যোগ করার পর রুট ৩৮ বলে ১৮ রান করে জনিত লিয়ানাগের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর ব্যান্টন তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ৯৫ বলে, ৩৩তম ওভারে ওয়েলাগের বলে চার মেরে। শেষদিকে জর্ডান কক্সের ৪২ বলে অর্ধশতক এবং জ্যাকস ও ওভারটনের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ৩৫৫ রান করে।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ব্যর্থতা
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই হোঁচট খায়। সনি বেকারের বলে পাথুম নিশাঙ্কা ১ রানে বিদায় নেন, যা বেকারের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে উইকেট ছিল। কুশল মেন্ডিস দ্রুত কিছু রান তুললেও শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৩৫ রান করে আউট হন গাস অ্যাটকিনসনের বলে। জফরা আর্চার দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে কিছু রান খরচ করেন। পরে রাথনায়েকে ও চারিথ আসালাঙ্কা জুটির চেষ্টা করলেও রান-আউটের বিভ্রান্তিতে রাথনায়েকে সাজঘরে ফেরেন। আসালাঙ্কা পরের ওভারে জো রুটের বলে মাত্র ৭ রানে ক্যাচ তুলে দেন। লিয়াম ডসনের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে।
নির্ধারণী বোলিং ও সিরিজ জয়
শ্রীলঙ্কার বিপর্যয় আরও বাড়ে যখন লিয়াম ডসন ওয়েলাগেকে সাজঘরে ফেরান, ফলে ১৭তম ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮২ রানে ৬ উইকেট। এরপর লিয়ানাগে ১৯ রান করে ওভারটনের বলে আউট হন। লিয়াম ডসন তার তৃতীয় শিকার হিসেবে ফার্নান্দোকে ৬ রানে ফেরান। ইনিংসের শেষ দিকে মালিঙ্গা ডসনের বলে কিছু রান তুললেও জ্যাকসের বলে রুট লেগ-স্লিপে একটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিলে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ২৯.১ ওভারে ১৩২ রানে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ৩৫৫/৭ (টম ব্যান্টন ১২৬, হ্যারি ব্রুক ৭৭, জর্ডান কক্স ৭৬; আসিথা ফার্নান্দো ৩-৬৪)। শ্রীলঙ্কা ১৩২ (কুশল মেন্ডিস ৩৫; লিয়াম ডসন ৩-২৬, গাস অ্যাটকিনসন ২-২৬)। ২২৩ রানের এই জয়ে ইংল্যান্ড তাদের সিরিজ জয় সম্পন্ন করে।
- ম্যাচ সেরা: টম ব্যান্টন তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির জন্য।
- সিরিজের ফলাফল: ইংল্যান্ড ২-১ শ্রীলঙ্কা।
- বোলিং নৈপুণ্য: লিয়াম ডসন ও গাস অ্যাটকিনসনের সম্মিলিত বোলিং লঙ্কানদের মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে দেয়।
- ঐতিহাসিক অর্জন: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা পঞ্চম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের।

