কলকাতায় প্রকাশ্যে হেনস্তা: অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটাল পুলিশ

কলকাতার বেহালার সরশুনা এলাকায় এক নাবালিকাকে চুম্বনের অভিযোগে এক তরুণ ও তার পরিবারকে প্রকাশ্যে নগ্ন করে হাঁটানোর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাত ৮টার দিকে ঘটা এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ বছরের এক তরুণ রোববার সন্ধ্যায় সরশুনা এলাকার খালপার মাঠের কাছে ১৩ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যান। সঙ্গে ছিল তার ১৯ বছর বয়সী এক বন্ধু। কিশোরীর সঙ্গে তরুণ চুম্বন বিনিময় করলে তা এক স্থানীয় বাসিন্দার চোখে পড়ে এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে কিশোরীর বাবা ও মামাকে খবর দেন। সঙ্গে ছিল তার ১৯ বছর বয়সি এক বন্ধুও। বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজছে পুলিশ। আর এই দুই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই দুটি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পরিবারের লোকজনের হাতে তরুণ ও তার বন্ধু আটক হওয়ার পর তাদের ওপর ব্যাপক মারধর চালানো হয়। এক পর্যায়ে তরুণের বাবাকেও খবর দিয়ে ডেকে আনা হয় এবং তাঁকেও মারধর করা হয়। অভিযুক্তরা জানিয়েছে, তাদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক নগ্ন অবস্থায় ৫০ মিটার রাস্তায় হাঁটানো হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নাবালিকার বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়, এরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। মূলত এ ভয়েই তিনজন নগ্ন অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। তা দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার বন্ধু।

এ ঘটনায় সোমবার তরুণের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মা রিঙ্কু সরকার, মামা রাহুল বর্মন এবং প্রতিবেশী শঙ্কর সাউকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তাদের রিমান্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এরপরই বিতর্কিত এক ঘটনার জন্ম দেয় স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই শাস্তির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার পুলিশ তিন অভিযুক্তকে প্রকাশ্য রাস্তায় কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটিয়েছে। এরপরেই একই জায়গায় অভিযুক্ত তিন জনকে খালি গায়ে, কোমরে দড়ি পরিয়ে হাঁটায় পুলিশ।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুলিশ যদি সময়মতো পৌঁছাত, তবে তরুণ ও তার বাবাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে এমন হেনস্তার শিকার হতে হতো না। আলতাফ আহমেদ আরও প্রশ্ন তোলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা কি শুধু এভাবেই অভিযুক্তদের দড়ি বেঁধে প্যারেড করানো? তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনসম্মত নয় বরং পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক নির্দেশ পালনে ব্যস্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইতিহাস সাক্ষী আছে এভাবে অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। সময়মতো পুলিশ পৌঁছোলে এই ঘটনাটা ঘটত না।