শুক্রবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে প্যাট কামিন্সকে বেশ তাড়াহুড়ো করে খাবার সারতে দেখা যায়। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তার হাতে ছিল একটি চিকেন র্যাপ, যা খেতে খেতেই তিনি দলের সতীর্থদের সাথে নিয়মিত বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট অধিনায়কের জন্য কোচিং স্টাফ এবং সহ-বোলারদের সাথে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় সেশনের বোলিং কৌশল নির্ধারণের মাঝে নিজের জন্য কোনো বাড়তি সময় ছিল না। এটিই প্রমাণ করে যে, নিউল্যান্ডসের এই পিচে বোলারদের জন্য সুযোগের চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে অজিদের।
কঠিন পিচে অজিদের নিরলস প্রচেষ্টা
নিউল্যান্ডসের উষ্ণতম দিনে বোলারদের জন্য সামান্যতম সুবিধা না থাকা পিচে এই লড়াই ছিল অজিদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। ম্যাচের চিত্র ফুটে ওঠে যখন পেসার মিচেল স্টার্ক দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের বহুসংখ্যক স্পেলের একটি শুরু করতে রান-আপের মাথায় এসে দাঁড়ান। তীব্র যন্ত্রণায় তার মুখ বিকৃত হয়ে উঠছিল। শক্ত নিউল্যান্ডস পিচে বোলিং করার সময় স্টার্ক দুইবার ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এবং ডান পায়ের কাফ পেশির ক্র্যাম্পের কারণে বারবার পা চেপে ধরেন। তাকে মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত মনে হলেও তিনি নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে স্পিড বজায় রেখে বোলিং চালিয়ে যান।
সিরিজের চূড়ান্ত দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে যে চ্যালেঞ্জ
চতুর্থ দিনের নাটకీయতায় রিয়ান রিকেলটন এবং উইয়ান মুলডারের টানা লড়াইয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার অন্তত নয়জন ফিল্ডারকে ধুলোমাখা ও কাদার দাগযুক্ত জামাকাপড়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। তবে এই কঠিন পরিশ্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে চূড়ান্ত দিনে ২৮৮ রান রক্ষা করার চ্যালেঞ্জের স্পষ্ট চিত্র ভেসে উঠেছে। নিউল্যান্ডসের এই উইকেটে ফাস্ট বোলারদের জন্য অসমান বাউন্স ছাড়া তেমন কোনো সহায়তা নেই। প্রথম দিন আকাশে মেঘ থাকা অবস্থায় স্টার্কের নতুন বল সুইং করলেও পরে মোটেও সিম মুভমেন্ট পাওয়া যায়নি। একমাত্র মার্কুয়েস অ্যাকারম্যানকে স্টার্কের এক বাউন্সারে আউট হওয়া ছাড়া বাকি সব উইকেট পড়েছে প্রোটিয়া ব্যাটারদের নিজস্ব ভুলে। ফলে ধৈর্য ধরে ব্যাট করতে পারলে অজি ব্যাটারদের পক্ষে জয় পাওয়া সম্ভব।
স্পিনারদের ভূমিকা ও দলের কৌশল
প্রথম ইনিংসে নিষ্প্রভ থাকা কাগিসো রাবাদা শেষ দিনে অজিদের বড় হুমকি হতে পারেন। অন্যদিকে অজি ফাস্ট বোলাররা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে আরেকটু ফুল-লেংথ ও স্টাম্প সোজা বোলিং করার চেষ্টা করেছেন। শুক্রবারে কেবল নাথান লায়নই উইনবার্গ এন্ড থেকে অফ-স্টাম্পের বাইরের রাফ ব্যবহার করে সাফল্য পাচ্ছিলেন। তার বল টার্ন করে উইয়ান মুলডারকে বারবার চাপে ফেলছিল। কিন্তু মুলডার ক্রিজে তার শরীর ব্যবহার করে বুদ্ধিমান ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সাইমন হারমারও লায়নের বোলিং দেখে শেখার চেষ্টা করেছেন, তবে দিনশেষে সেই লায়নের বলেই বোল্ড হয়ে যান তিনি।
পাঁচম দিনে জয়ের রূপরেখা
রিকেলটনের মতে, বাঁহাতি ব্যাটারদের জন্য মাঝপিচে খেলা তুলনামূলক সহজ ছিল এবং টার্ন সামলানো যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা চাইলে অ্যাকারম্যানের পার্ট-টাইম লেগ-স্পিন ব্যবহার করতে পারে, যা ট্র্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, অ্যালেক্স ক্যারে এবং কুপার কনোলির বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা হবে। শেষ দিনে ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে কে জয়ী হবে তা নির্ভর করবে কে কতটা ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর এক দিন পার করার পর অস্ট্রেলিয়া দল তাদের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিরিজ ট্রফি নিজেদের করে নিতে মাঠে নামবে।

