ইতিহাসের পালাবদল কিংবা ভাগ্য-পরিবর্তনকারী প্রত্যেকটি প্রেক্ষাপটে কিছু মহামানবের গল্প থাকে, যারা বরাবরই অপঠিত থেকে যান। ঘটনাগুলো সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও সেই মহান ব্যক্তিদের সম্পর্কে খুব কমসংখ্যক মানুষই অবগত থাকে। তেমনই একজন ব্যক্তির নাম নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)।
হিজরি পঞ্চম সাল। খন্দকের যুদ্ধ (Battle of the Trench) শুরু হয়ে গেছে। মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে গাতফান এবং তাদের মিত্র আরব গোত্রগুলোর পাশাপাশি বনু নাজিরের ইহুদিরা সম্মিলিতভাবে মদিনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে বনু নাজিরের নেতা হুয়াই ইবন আখতাবের চক্রান্তে মদিনার অভ্যন্তরে বসবাসকারী বনু কুরাইজাও মুশরিকদের মিত্রশক্তিতে পরিণত হয়। বনু কুরাইজা মদিনার অভ্যন্তরে অবস্থান করায় এবং মদিনা সনদ অনুযায়ী মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় ওই দিকে কোনো পরিখা খনন করা হয়নি। কুরাইজাদের এই গোপন বিশ্বাসঘাতকতার খবর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছে যায়। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ভীতি ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাছাড়া কুরাইজাদের অধিকারে ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ তলোয়ার, দুই হাজার বর্শা, ৩০০ বর্ম ও ৫০০ ঢাল। তারা পেছন থেকে আক্রমণ করলে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।

