পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গোপন ও প্রকাশ্যে দান-সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দান-সদকা কেবল দুনিয়ার বিপদাপদ থেকেই মুক্তি দেয় না, বরং এর অশেষ সওয়াব মানুষ পরকালেও লাভ করে। মহানবী (সা.) সদকার নানা বরকত ও সুবিধার কথা বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সদকা বিপদ-আপদ প্রতিরোধ করে, গুনাহ মুছে ফেলে, আল্লাহর অসন্তোষ থেকে রক্ষা করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি মানুষের আয়ুকে বরকতময় করে তোলে। মহানবী (সা.) আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলেছেন, সদকা কখনোই সম্পদ কমায় না, বরং তা সম্পদ বৃদ্ধি করে ও বরকত আনে।
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি আমল ছাড়া তার সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এই তিনটি জিনিস হলো—সাদকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান দান, রেখে যাওয়া জনকল্যাণমূলক জ্ঞান এবং এমন সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি দান-সদকা করার এবং এক্ষেত্রে বিলম্ব না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-মুনাফিকুনের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, মানুষের মৃত্যু আসার আগেই যেন তাকে দেওয়া রিজিক থেকে সে দান করে। অন্যথায় মৃত্যুকালে মানুষ আক্ষেপ করে বলবে, হে আমার রব, আমাকে যদি আরও অল্প কিছুদিন সময় দেওয়া হতো, তবে আমি দান করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
সদকার প্রভাব বোঝাতে মহানবী (সা.) হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর একটি রূপক বর্ণনা করেছেন। নবী ইয়াহইয়া (আ.) বনি ইসরাইলকে বলেছিলেন, সদকা প্রদানকারী সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শত্রুরা বন্দি করে হাত ঘাড়ের সাথে বেঁধে মৃত্যুদণ্ডের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তখন সে তার কাছে থাকা সবকিছু দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার প্রস্তাব দেয় এবং মুক্তি পায়। তিরমিজি শরিফে বর্ণিত এই হাদিস থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, সদকা হলো জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির এক কার্যকর মাধ্যম। এটি জীবনের সেই শিকলগুলো কেটে ফেলে যা মানুষকে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনে বাধা দেয়।
পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য দান করার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, কারণ পৃথিবীজুড়ে লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে। তবে দান করার ক্ষেত্রে প্রকৃত উপযোগীদের খুঁজে বের করা জরুরি। সদকা মানেই কেবল অর্থের বিনিময় নয়; বরং হাসিমুখ, সৎ পরামর্শ দেওয়া কিংবা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাও সদকার অন্তর্ভুক্ত। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সদকার অভ্যাস গড়ে তোলাই জান্নাতের পথ সুগম করার অন্যতম সেরা উপায়।

