প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Innovate today. Nourish tomorrow’ বা আজকের উদ্ভাবনই গড়ে দিতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদিত খাবার নিরাপদ ও পুষ্টিকর অবস্থায় ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো এবং এর অপচয় রোধ করা সমানভাবে জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির গুরুত্ব বাড়ছে।
আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির অন্যতম উৎস হলো দুধ। তবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য হওয়ায় খামার থেকে শুরু করে সংগ্রহ, পরিবহন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সামান্য অসতর্কতায় এর গুণমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দুধের প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান দীর্ঘ সময় অক্ষুণ্ন রাখতে এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আলট্রা-হাই টেম্পারেচার বা ইউএইচটি প্রক্রিয়া একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।
ইউএইচটি পদ্ধতিতে দুধকে অন্তত ১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য উত্তপ্ত করা হয় এবং এরপরই দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার ফলে দুধ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং সাধারণ তাপমাত্রাতেই দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে দুধের পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান বজায় থাকে। ইউএইচটি মিল্ক রেফ্রিজারেশন ছাড়াই রাখা যায় বলে এটি পরিবহন ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে, যা সামগ্রিকভাবে দুধের অপচয় কমাতে সাহায্য করে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, বরং উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান ধরে রাখার সক্ষমতা অর্জন করা অপরিহার্য। আজকের এই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই নিরাপদ ও সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

